“সহযোগী” ই-টুরিজ্যমঃ টুরিজ্যম বলতে আমরা বুঝি ভ্রমণ সম্পর্কিত সার্ভিস সমূহ। যেমনঃ বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান, হোটেল-মোটেল,পর্যটন কেন্দ্র ইত্যাদি। এসবের সার্ভিস বা সেবা দেওয়াকে টুরিজ্যম ব্যবসা বলে আর সেইসব সেবা/সার্ভিস অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়াকে ই-টুরিজ্যম বলা হয়। বিশ্বের সকল উন্নত দেশ পর্যটন ব্যবসার উপর নির্ভরশীল যেমন মালয়েশিয়া,থাইল্যান্ড,সিঙ্গাপুর সহ অনেক দেশের মূল আয় হচ্ছে পর্যটন শিল্প। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অনেক সম্ভাবনাময়ী তাই বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে পর্যটন খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। এই ব্যবসা খুবই লাভজনক ও মজার হয়। কেন? কারণ এসব ব্যবসা সেবা/সার্ভিস ভিত্তিক। সেবা/সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসা অন্যান্য ব্যবসা থেকে আলাদা কেন? কারণ সেবা/সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসায় উৎপাদন খরচ নাই। যেহেতু উৎপাদন খরচ নাই তাই এসব ব্যবসায় গ্রাহক বেশি থাকলে লাভ আর গ্রাহক কম থাকলে ক্ষতি নাই। একটা উদাহরণের মাধ্যমে বুঝানো সহজ হবে,আপনি দেখবেন কক্সবাজারে ভাল মানের যে হোটেল গুলো আছে সেগুলোর প্রতিদিনের রুম ভাড়া ৫০০০ টাকা,আপনি যদি ৪৮০০ টাকাও অফার করেন তারা রুম দিবে না। কিন্তু আপনি যদি অন্য কোন টুরিজ্যম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেই হোটেলের রুম  বুকিং দেন তখন আপনি ৪৫০০ টাকা দিয়েও সেই হোটেলের রুম পাবেন কিন্তু কেন বা কিভাবে সম্ভব ? ধরি একটা হোটেলের মোট রুম সংখ্যা ১০০টি, তাহলে বৎসরে উনারা রুম ভাড়া দিতে পারেন ৩৬৫*১০০=৩৬,৫০০ রাত । এবার আসা যাক মুল হিসেবে,

ধরি ১০০ রুমের কোন হোটেলে আজকের দিনে গ্রাহক আসল ৭০ জন তাহলে কি ঐ হোটেল বাকি ৩০ রুমের ভাড়া পাবেন ? নিচ্চয়ই না। তাহলে কি ঐ ৩০ রুম পরের দিন ১০০ রুমের সাথে যোগ হবে মানে পরের দিনের রুমের সংখ্যাকি ১৩০ হবে ? অবশ্যই না। যেহেতু এসব ব্যবসা সময় সম্পর্কিত মানে আজকের দিনে গ্রাহক বেশি আসলে লাভ বেশি আর যদি ৭০ জন আসে তাহলে কি ক্ষতি হবে? সবাই বলবেন হ্যাঁ,কিন্তু উত্তর হল না। গ্রাহক কম আসলেও ক্ষতি হয় না কারণ যে রুম গুলো ভাড়া হয় নি সেই রুম গুলোতে কোন উৎপাদন খরচ নাই বা পানি ,বিদ্যুৎ, গ্যাস খরচ নাই। উৎপাদন খরচ বলতে কি বুঝায় ? কোন খাবার হোটেলে ১০০ জনের জন্য খাবার তৈরি করা হলে যদি ৭০ জন আজকের দিনে খাবার খায় তাহলে বাকি ৩০ জনের খাবার কিন্তু নষ্ট হয়ে যায়,ঐ নষ্ট খাবার তৈরি করতে যে খরচ হয়েছিল সেটাকে বলা হয় উৎপাদন খরচ। নষ্ট হওয়া খাবারের উৎপাদন খরচ মোট লাভের অংশ থেকে বিয়োগ করলে লাভের স্থানে লোকসান হয়। এবার নিচ্ছয়ই বুঝতে পারছেন সেবা বা সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসায় উৎপাদন খরচ না থাকাতে  গ্রাহক কম হলেও লোকসান গুনতে হয় না। মনে রাখবেন কোন হোটেলে সারা বছর গড়ে ৭০% এর উপরে গ্রাহক হয় না। একই ভাবে সকল ধরনের সেবা/সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসার বিশেষভাবে টুরিজ্যম ব্যবসার গ্রাহক গড়ে ৭০% ধরা হয়। কারণ এসব ব্যবসা সময়ের উপর নির্ভরশীল যেমন ভালমানের যাত্রীবাহী বাস গুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাত্রী কম হলেও যাত্রা শুরু করে।

এবার আসা যাক মুল আলোচনায়, এতক্ষণ আমরা যা বুঝলাম তা হল হোটেল এবং বাস এর গড় গ্রাহক ৭০% । বাকি ৩০% কে মাথাই রেখে আমাদের আশেপাশের সকল পর্যটন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন, যেমন ভাবে আমরাও করব আমাদের “সহযোগী” ই-টুরিজ্যম প্রজেক্ট। কিন্তু কিভাবে?

উদাহরণঃ ১০০ রুমের হোটেলে বৎসরে ৩০% রুম খালি থাকলে মোট খালি রুমের সংখ্যা হয় ১০৯৫০ রাত । এই খালি থাকা রুমগুলো হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিভিন্ন টুরিজ্যম প্রতিষ্ঠানকে নাম মাত্র মূল্যে অর্থাৎ স্বাভাবিক মূল্য থেকে প্রায় ৬০-৭০% কম মূল্যে বিক্রয় করে থাকে এতে হোটেল কতৃপক্ষ একসাথে মোটা অংকের টাকা পায়,অপরদিকে টুরিজ্যম প্রতিষ্ঠান গুলো খুবই কম মুল্যে রুম গুলো কিনতে পারে বিধায় বেতনভুক্ত জনবল দিয়ে প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে গ্রাহক সৃষ্টি করে মোটা অংকের লাভ করে থাকে।

“সহযোগী” ই-টুরিজ্যম সফল হবে কিভাবে?

“সহযোগী” দেশের সকল হোটেল,বাস মালিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কম মুল্যে হোটেল রুম ও বাসের টিকেট কিনে বা বুকিং করে নিলে তা বিক্রয় করে খুবই ভাল আয় করা যাবে। যেহেতু প্রতিটা গ্রামেই আমাদের উদ্যোক্তা থাকবে আমরা যদি প্রতিমাসে সর্বনিম্ন ১০ জনকে হোটেল প্যাকেজ বিক্রয় করি আমাদের প্রতিমাসে প্রায় ১০ লক্ষ রুম বিক্রয় হবে। ১০ লক্ষ রুম থেকে বিশাল অংকের টাকা আয় করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের কাছে পর্যটন খাতে অবদানের জন্য সুনাম অর্জন করবে “সহযোগী”।

উদ্যোক্তাদের কাজঃ ই-টুরিজ্যম অনলাইন প্রজেক্ট হওয়াতে অনলাইনে গ্রাহক থাকবেই পাশাপাশি আমরা “সহযোগী” ই-টুরিজ্যম সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে জানানো  এবং নিয়মিত “সহযোগী” ই-টুরিজ্যম ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপ শেয়ার করা।

কোম্পানির লাভঃ এই প্রজেক্ট এর মাধ্যমে কোম্পানি প্রচুর পরিমাণে দেশি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে। আমরা প্রত্যেক উদ্যোক্তা যদি সমানভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি তাহলে কোম্পানী প্রচুর পরিমাণে আয় করবে যার বড় একটা অংশীদার হবে সকল উদ্যোক্তা।

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনঃ সকল উদ্যোক্তাদের এই প্রজেক্টের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রত্যেক উদ্যোক্তা শিখতে শিখতে আয় করবেন। সকল উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে প্রশিক্ষিত হলে আমরা আমাদের প্রজেক্টের শতভাগ সাফল্য লাভ করবো। সকল উদ্যোক্তার এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

উদ্যোক্তার আয়ঃ এই প্রজেক্টটি “সহযোগী”র অন্যতম লাভজনক একটি প্রজেক্ট। কোম্পানির আয়ের শেয়ার পাবে সকল উদ্যেক্তা। এই প্রজেক্ট থেকে একজন উদ্যোক্তা প্রতি মাসে ১০-১৫ হাজার টাকার উপরে আয় করতে সক্ষম হবে।

ট্র্যাভেলসঃ ট্রাভেল প্রজেক্টটি বাংলাদেশের সকল মানুষদের পৃথিবী কে হাতের মুঠোয় আনতে সহায়তা করবে।মুলত ট্যুর এনড ট্রাভেল বলতে আমরা বুঝি পর্যটন ও ভ্রমন সর্ম্পকীয়। হোক দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বিদেশে। কাজের ফাকে, হানিমুন ট্রিপ কিংবা ঘুড়ে আসার জন্য মানুষ পাড়ি জমায় দেশ বিদেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে। এসব ট্যুর প্যাকেজ প্রদান ও নিয়ন্ত্রন করাই ট্যুর এন্ড ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান এর কাজ। এছাড়াও ভিসা ও পাসপোর্ট প্রসেসিং, লোকাল টিকেট ও এয়ার টিকেটিং সহ সব ধরনের কাজ করবে এই প্রতিষ্ঠান।  এই প্রজেক্টটি আমরা বিভিন্ন উপায়ে বাস্তবায়ন করবো। বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে উন্নত করা। হোটেল বুকিং আরও সাশ্রয়ী ও সহজ করা। আন্তর্জাাতিক ভ্রমন আরও সহজ ও নির্ভরশীল করা।

বিদেশে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা করা। অভ্যন্তরীন ও বিদেশী ভ্রমনে সহায়তা প্রদান করা। এসকল সেবা প্রদান করে থাকবে আমাদের ট্যুর এন্ড ট্রাভেল। এছাড়াও ““সহযোগী”” ট্যুর এন্ড ট্রাভেল এর সব থেকে বড় লক্ষ্যমাত্রা হল বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা হতে ঢাকাগামী ফার্স্টক্লাস বাস সার্ভিস চালু করা। এবং বাংলাদেশের বিশেষ বিশেষ স্থানে রেষ্ট হাউস স্থাপন করা। অপরদিকে বাস সেবা কে কাজে লাগিয়ে আমরা বাংলাদেশে প্রথম সবচেয়ে দ্রুতগামী কুরিয়ার সেবা প্রদান করবো। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের কুরিয়ার সেবা উন্নতিতে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

উদ্যোক্তাদের কাজঃ এই প্রজেক্টে উদ্যোক্তারা প্রতক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করতে পারবে। একজন উদ্যোক্তা এই প্রজেক্ট এর অফিসগুলোতে বসে কিংবা আমাদের সেবা প্রচারনা করে কাজ করতে পারবেন। তবে উদ্যোক্তাকে মনে রাখতে হবে সবসময় আমাদের সেবা সবার উপরে। তাই সবসময় সকল উদ্যোক্তা কে আমাদের সেবা গ্রহনের পরামর্শ দিতে হবে।

কোম্পানির লাভঃ এই প্রজেক্ট এর মাধ্যমে কোম্পানি প্রচুর পরিমাণে দেশি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে। আমরা প্রত্যেক উদ্যোক্তা যদি সমানভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি তাহলে কোম্পানী প্রচুর পরিমাণে আয় করবে যার বড় একটা অংশীদার হবে সকল উদ্যোক্তা।

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনঃ সকল উদ্যোক্তাদের এই প্রজেক্টের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রত্যেক উদ্যোক্তা শিখতে শিখতে আয় করবেন। সকল উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে প্রশিক্ষিত হলে আমরা আমাদের প্রজেক্টের শতভাগ সাফল্য লাভ করবো। সকল উদ্যোক্তার এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

উদ্যোক্তার আয়ঃ এই প্রজেক্টটি “সহযোগী”র অন্যতম লাভজনক একটি প্রজেক্ট। কোম্পানির আয়ের শেয়ার পাবে সকল উদ্যেক্তা। এই প্রজেক্ট থেকে একজন উদ্যোক্তা প্রতি মাসে ২০-২৫ হাজার টাকার উপরে আয় করতে সক্ষম হবে।